১ জুলাই থেকে ফের নতুন হ্যান্ডসেট নিবন্ধন

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:১০  

VoLTE সক্ষম মোবাইল হ্যান্ডসেট এবং নেটওয়ার্ক অপটিমাইজেশন নিয়ে কর্মশাালা

সিমের মতো ফোনও নিবন্ধনের আওতায় আনতে আগামী ১ জুলাই থেকে ফের নতুন হ্যান্ডসেট নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। আর ৩০ জুন পর্যন্ত যেসব আনঅফিশিয়াল ফোন নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনে অনুষ্ঠিত ভয়েস ওভার লং টার্ম ইভালুয়েশন বা ভোল্টি সক্ষম মোবাইল হ্যান্ডসেট এবং নেটওয়ার্ক অপটিমাইজেশন শীর্ষক কর্মশালায় এ তথ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কশিমনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেছেন, ১ জুলাই থেকে নতুন হ্যান্ডসেট নিবন্ধন কার্যক্রম চালু হবে। তার আগের দিন পর্যন্ত কোনো অবৈধ বা আনঅফিশিয়াল ফোন নেটওয়ার্কে যুক্ত হলে সেগুলো বন্ধ হবে না। বরং, স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে।

প্রসঙ্গত, দেশে চোরাইপথে আসা অনিবন্ধিত হ্যান্ডসেটের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও দেশীয় উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা দিতে ২০২১ সালের জুলাইয়ে দেশে প্রথমবারের মতো ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) প্রকল্প চালু করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। তবে কার্যক্রম শুরুর সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পটি।

এরপর গত ১৬ জানুয়ারি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, মোবাইল ফোনের ডেটাবেজ এবং অটোমেটিক রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা বিটিআরসির আছে। তাই অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিবন্ধনবিহীন মোবাইল ফোনগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।

এদিকে ভোল্টি সক্ষম মোবাইল হ্যান্ডসেট এবং নেটওয়ার্ক অপটিমাইজেশন কর্মশালা কর্মশালায় জানানো হয়েছে, ২০২৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে টুজি প্রযুক্তি বিদায় নেবে। কথা বলার ক্ষেত্রে গ্রাহক যাতে ভোগান্তিতে না পড়েন সেজন্য সব ফিচার ফোনে ভোল্টি সক্ষম মোবাইল ফোন উৎপাদনের নির্দেশ দিয়েছে বিটিআরসি। এতে ভোল্টি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কথা বলতে পারবেন গ্রাহকরা। তবে মোবাইল ফোনের দাম না বাড়িয়েই এই প্রযুক্তি হ্যান্ডসেটে সংযোজন করতে হবে উৎপাদকদের।

সভায় মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি অনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ও অ্যাসোসিয়শন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটর্স অব বাংলাদেশের (এমটব) প্রতিনিধিসহ সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে প্রায় ১০০ জন উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্যে স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেঃ জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জুয়েল বলেন, ২০১৭ সালে বিটিআরসির তত্ত্বাবধানে দেশে মোবাইল ইন্ডাস্ট্রির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে দেশে ১৭টি প্রতিষ্ঠান মোবাইল হ্যান্ডসেট প্রস্তুত করছে। যার মাধ্যমে দেশের চাহিদার শতকরা ৯৯ ভাগ হ্যান্ডসেট দেশীয় উৎপাদন থেকেই পাওয়া যাচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে এ শিল্পে দেশীয় বিনিয়োগসহ সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগও হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিটিআরসির যে স্পেকট্রাম রোডম্যাপ রয়েছে তার একটি প্রধান অনুষঙ্গ হলো, ২০২৯-২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে ২জি নেটওয়ার্ক/প্রযুক্তি যাতে পুরোপুরি বন্ধ যাতে করা যায়। তাহলে এখন থেকে ক্রমান্বয়ে বাজার হতে ২জি ডিভাইস/হ্যান্ডসেটগুলো ধীরে ধীরে ৪জি সক্ষম স্মার্ট/ফিচার ফোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করতে হবে। প্রতিস্থাপনের বিষয়টি বিবেচনায় বস্তুত এই কর্মশালার আয়োজন।

পরবর্তীতে VoLTE এর গুরুত্ব ও সুযোগ, কারিগরী পদ্ধতি ও কার্যনীতি এবং কৌশল বাস্তবায়নের বিষয়ে বিশদ উপস্থাপনা করেন কমিশনের স্পেকট্রাম বিভাগের পরিচালক লেঃ কর্ণেল আউয়াল উদ্দীন আহমেদ।

কর্মশালায় আগত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/বিশেষজ্ঞগণ চারটি গ্রুপে (ক) নেটওয়ার্ক মূল্যায়ন (খ) উৎপাদক (গ) মান নিয়ন্ত্রণ ও (ঘ) VoLTE সেবা ইত্যাদিতে বিভক্ত হয়ে আলোচনা, কর্মপদ্ধতি বিশ্লেষণ ও ফলাফল নির্ধারণে অংশগ্রহণ করেন। যেখানে, বর্তমান নেটওয়ার্ক পরিকাঠামো মূল্যায়ন, VoLTE প্রস্তুতি মূল্যায়ন ও VoLTE-এর জন্য নেটওয়ার্ক KPIs সংজ্ঞায়িত করা, VoLTE ডিভাইসের জন্য প্রযুক্তিগত বিবেচনা, সহযোগিতা এবং অংশীদারিত্ব, গুণগতমান নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা, ডিভাইস সার্টিফিকেশন মান, নেটওয়ার্ক-ডিভাইস ইন্টিগ্রেশন টেস্টিং, VoLTE পরিষেবার ট্যারিফ এবং সচেতনতা, VoLTE সামর্থ্য এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা বিষয়ে বিশদ আলোচনা ও কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।

কমিশনের স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার প্রকৌশলী শেখ রিয়াজ আহমেদ VoLTE অভিযোজনে সকল অপারেটরের সমান প্রস্তুতির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া, অদ্যাবধি যে সকল অপারেটর থ্রিজি সানসেট (উপযোগী নেটওয়ার্ক বন্ধকরণ) করেনি, তারা শীঘ্রই তা করে নিবেন মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। কর্মশালার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় যে কোনো ধরণের রেগুলেটরি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি।

ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমীয়া, সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যেন সঠিক সময়ে গ্রাহকের নিকট পৌঁছায়- এ বিষয়ে কমিশনের অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগের কমিশনার ড. মুশফিক মান্নান চৌধুরী গুরুত্বারোপ করেন।

এসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (AMTOB) মহাসচিব লেঃ কর্নেল (অবঃ) মোহাম্মদ জুলফিকার তাঁর বক্তব্যে বলেন, VoLTE হচ্ছে প্রযুক্তি প্রয়োজনীয়তা এবং প্রযুক্তির এ পরিবর্তনের সাথে অভিযোজন ঘটাতে মোবাইল অপারেটরসমূহ পুরোপুরি প্রস্তুত। যেহেতু নেটওয়ার্ক এবং ডিভাইস পরিপূরক তাই উভয়কে উন্নত করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (MIOB) এর মহাসচিব জনাব জাকারিয়া শাহীদ VoLTE সক্ষম মোবাইল হ্যান্ডসেট এবং নেটওয়ার্ক অপটিমাইজেশন বিষয়ে বিশেষভাবে মোবাইল অপারেটরদের সহযোগিতা কামনা করেন। মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ যতটুকু সম্ভব গ্রাহকের জন্য সুলভে মোবাইল ফোন উৎপাদন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।